শত নির্যাতনেও সালাউদ্দিন আহমেদ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি: রিজভী
অত্যাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখে পড়েও সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নীতি থেকে কখনও বিচ্যুত হননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নানা নির্যাতন-নিপীড়নের পরও তিনি বিচলিত হননি। সালাউদ্দিন আহমেদ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, অনেক জাতীয় নেতাও তা করতে পারেননি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদের এই প্রয়াণ স্বাভাবিক কোনো প্রয়াণ নয়। এটি মূলত জেল-জুলুম ও নির্যাতনের ফল। তিনি অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ মানুষ ছিলেন, এমন কোনো বয়স তাঁর হয়নি। এখানে উপস্থিত বরকতুল্লাহ বুলু বা আব্দুস সালাম ভাইদের চেয়েও তিনি বয়সে ছোট ছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যু শুধুই শারীরিক প্রয়াণ নয়; এটি অত্যাচার ও নিপীড়নের ফলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আসা মৃত্যু।
অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আন্দোলনের সময় তাঁকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে গ্রেপ্তার করে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। কারাগারে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে জামিন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ফ্যাসিস্ট আমলে সারাদেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে রিজভী আরও বলেন, দেশজুড়ে যেভাবে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, সালাউদ্দিন আহমেদও তার শিকার হয়েছেন। এমনকি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও তারা নির্যাতন ও অন্তরীণ করতে ছাড়েনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, দেশে বর্তমানে যেটুকু গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সালাউদ্দিন আহমেদ তা বেশিদিন ভোগ করতে পারলেন না। তবে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। দলের নীতি, কর্মসূচি ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও অপূরণীয় আনুগত্য আগামীর রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, যতদিন আমরা বেঁচে থাকব, সালাউদ্দিন আহমেদের এই আদর্শ আমাদের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও প্রেরণা হয়ে থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন এমপি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, আমানুল্লাহ আমান এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু এমপি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।





