বেবিচকের উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা, নিরাপত্তা-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ শুরু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বেবিচক জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম—কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিটের প্রস্তুতি জোরদার করা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য—‘নিরাপত্তা সবার দায়িত্ব: সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানান’ (Security is Everyone’s Responsibility: See Something, Say Something)। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি যাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কর্মসূচির আওতায় বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়মকানুন এবং নির্ধারিত প্রটোকল সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা-সচেতন সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা যাচাইয়ে বিভিন্ন অনুশীলন ও মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করা এবং সর্বোত্তম অনুশীলন অনুসরণে ব্রিফিং ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, এভিয়েশন সিকিউরিটি উইকের মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ জোরদার করা।
তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন—এটাই প্রত্যাশা। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের উন্নত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বেবিচক আশা করছে, এ কর্মসূচি বিমানবন্দরগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আসন্ন আইকাও ইউএসএপি-সিএমএ অডিটের প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। দেশের এভিয়েশন নিরাপত্তাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





