শীতের আগেই বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
- এক বছরে ২৭ হাজার অগ্নিকাণ্ড, সম্পদহানি ৫৭০ কোটি টাকার
- অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ: বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ
- গত এক বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ৮৫
- ভয়াবহতা বিবেচনায় সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে মাঠে নামেন
- ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের চেষ্টায় ৪ ঘন্টায় টঙ্গীর আগুন নিয়ন্ত্রণে
- ৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিভল পুরানো ঢাকার মুনসুর খান প্লাজার আগুন
- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অগ্নিকাণ্ডে ঝুটের ৩০টি গোডাউনের মালামাল পুড়ে ছাই
শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সাধারণত তীব্র শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুনের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও, এবার শীতের পূর্বাভাস আসার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন আগুনের খবর মিলছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাতাসের আর্দ্রতা কমতে শুরু করায় চারপাশের পরিবেশ দ্রুত শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা যেকোনো ছোটখাটো স্ফুলিঙ্গকেও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপ দিচ্ছে। অসচেতনতা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের যত্রতত্র ব্যবহার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা শীতের শুরুতেই এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠার আগেই টঙ্গীর এক ওষুধ কারখানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে ঘটা এই তিনটি দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কয়েক ডজন ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার অগ্নিঝুঁকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারো বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন গতকাল দীর্ঘ চার ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ভবনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য ও কেমিক্যালের কারণে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
আরও পড়ুন: ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ওই ওষুধ কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের ৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে আকাশের অনেকটাই ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র তাপ ও রাসায়নিক পদার্থের ঝাঁঝালো গন্ধে মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কারখানার ভেতরে কেমিক্যাল, বিপজ্জনক কাঁচামাল এবং ওষুধ তৈরির বিভিন্ন শিল্পজাত উপকরণ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত সংহারী রূপ ধারণ করে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে নির্মিত আধুনিক ভবনটিতে তাপমাত্রা মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কারখানার ভেতরের পানির সরবরাহ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গাজীপুর, উত্তরা, কুর্মিটোলা, পূর্বাচল ও রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে পানিবাহী গাড়িসহ মোট ২১টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ফায়ার বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে মাঠে নামেন। ঘন ধোঁয়া, অসহ্য তাপ ও কেমিক্যালের তীব্র ঝাঁঝ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড বেগ পেতে হলেও যৌথ দলের ৪ ঘণ্টার সমন্বিত চেষ্টায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর চকবাজারে মুনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন ৩৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নেভাতে পেরেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এক বার্তায় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় ‘আগুন নির্বাপণ সম্পন্ন’ করতে পেরেছে তারা। গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মুনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু তা পুরোপুরি নেভাতে আরো ২৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, প্রচণ্ড তাপ, পুরান ঢাকার সরু গলি, পানির ঘাটতি, গুদামের পণ্য এবং শাটারের তালা কাটার মত জটিলতা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেভানোর কাজ অনেক ‘কঠিন’ করে তুলে। তিনি জানান, মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় ৭-৮টি গুদাম ছাতা, কসমেটিকস, আতরসহ বিপুল পরিমাণ পণ্যে পূর্ণ ছিল। গত মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও সেসব মালামালগুলোর নিচে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। পানির ধারা বন্ধ করে দিলে ওই ধোঁয়ার উৎস আর তাপ থেকে আগুন আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের ঘোষণা দিতে পারছিলেন না ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গত সোমবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝুটের ৩০টি গোডাউনের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ঘটনায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এসব গোডাউন পরিচালনা করতেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া, হাজীগঞ্জ ও শিবু মার্কার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিকদের ভাষ্য, একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একের পর এক গোডাউন আগুনের গ্রাসে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিক ইমরান হোসেন বলেন, আগুন লাগার পর তা দ্রুত আশপাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় গোডাউনে মজুদ করা ঝুটের কাপড় রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গোডাউনে আনুমানিক ৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ঝুটের কাপড় মজুদ ছিল। সেই হিসাবে ৩০টি গোডাউনের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বড় অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই তিনটি ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
গত এক বছরে সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ৭৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৩৯২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে, যা মোট ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি (১৫.৭৮ শতাংশ) এবং চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫ শতাংশ) অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এ ছাড়া রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে ৩৮টি, ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৬০৮টি, উত্তপ্ত ছাই থেকে ৩৫৬টি, মশার কয়েল থেকে ৪৯৩টি এবং আতশবাজি, ফানুস ও পটকা পোড়ানো থেকে ১০৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশে ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ ও ৩৯ জন নারী। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৬৭ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ ও ৭০ জন নারী। আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত ও ৭৭ জন আহত এবং রাসায়নিক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন।
একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১৬ জন। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৭ জন কর্মী আহত এবং ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবহনে আগুনের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে বাসে ১৫৩টি, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি, জাহাজে ২টি এবং ১টি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুনের ঘটনা ঘটে। আর মাসের হিসাবে মার্চে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫২২টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক বছরে বাসাবাড়িতে মোট ৮ হাজার ৭০৫টি আগুন লাগে, যা মোট আগুনের ঘটনার ৩২.১৭ শতাংশ। এ ছাড়া খড়ের গাদায় ৩ হাজার ৯২২টি, দোকানে ১ হাজার ৮০০টি, হাটবাজারে ১ হাজার ৬৭টি, শপিং মলে ৬১৭টি, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৬৫টি, পোশাকশিল্প ব্যতীত কলকারখানায় ৬১৫টি, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ৪৮৩টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ১২২টি, বহুতল ভবনের আগুন (৬ তলার ওপরে) ৭১টি, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে ১৫৫টি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫২টি, সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি, পাট গুদাম-পাটকলে ১২২টি, কেমিক্যাল গোডাউন বা দোকানে ৩৬টি, বস্তিতে ৯১টি, মসজিদে ২৫টি, মন্দিরে ৯টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৩টি এবং এসিতে ৬২টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।





