আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে মাস্কের কটাক্ষ, স্টারলিংকের অনুমোদন নিয়ে বিতর্ক

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন না পাওয়ায় দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে আবারও কটাক্ষ করেছেন ইলন মাস্ক। এবার আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগ করেছেন, ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতেই স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’

এরপর রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আম্বানি স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে: ককরোচ জনতা পার্টি

মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কয়েক বছর ধরে ভারতে ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করছে। তবে এখনো বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

মাস্কের দাবি, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ভারতের আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য পাঁচ বছর ব্যয় করার পরও কেন পূর্ণ অনুমোদন মিলছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান

মাস্কের মতে, স্টারলিংক চালু হলে প্রচলিত মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ সচল রাখা সহজ হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে দেওয়া আরেক পোস্টে মাস্ক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের মানুষের জীবন বাঁচাতেও এই সেবা সহায়ক হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্টারলিংককে বাজারে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার পেছনে বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। সরকারের বক্তব্য, অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের মতো স্টারলিংককেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

শুক্রবার ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না ভারত।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগের প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারলিংক, রিলায়েন্সের জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী এয়ারটেল-সমর্থিত ইউটেলসাত ওয়ানওয়েব প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে দিল্লির এক শিল্প সমাবেশে স্টারলিংকের কর্মকর্তারা জানান, ভারত প্রস্তুত হলেই তারা সেবা চালু করতে পারবেন।

ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল। স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা বিতরণের সম্ভাবনা নিয়ে গত বছর এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স। তবে জিও ও এয়ারটেল নিজেরাও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় এগোচ্ছে।

রিলায়েন্স লাক্সেমবার্গভিত্তিক এসইএসের সঙ্গে অংশীদারত্বে জিওর স্যাটেলাইট সেবা গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউটেলসাত ওয়ানওয়েবে বড় বিনিয়োগ রয়েছে এয়ারটেলের। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অনুমোদন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশটির আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো।

আম্বানিকে নিয়ে মাস্কের এই মন্তব্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আগের সুসম্পর্কের বিপরীত চিত্র সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও মাস্কের বৈঠকের পর ভারতে টেসলার গাড়ি কারখানা স্থাপন এবং স্টারলিংকের সেবা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে ভারতে মাস্কের ব্যবসায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র খুলে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি শুরু করে টেসলা। ভারত সরকার অবশ্য চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি দেশেই কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান তৈরি করুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রথম ১৫ মাসে টেসলার গাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজারটি। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে গাড়িগুলোর দাম বেশি। এদিকে চীনের বিওয়াইডি ও ভিয়েতনামের ভিনফাস্টের মতো তুলনামূলক কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা ভারতের বাজারে ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

অনলাইন কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে ভারত সরকারের নির্দেশনা নিয়ে মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের সঙ্গে দেশটির আইনি বিরোধও চলছে। এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাস্কের সম্ভাব্য দুটি ভারত সফর বাতিল হয়েছিল।

এর আগেও ভারতের ব্যবসায়িক আধিপত্য নিয়ে মাস্কের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নাম উল্লেখ না করে লিখেছিলেন, ‘ভারতে স্বাগতম, ইলন। আপনি অন্য ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’

রাহুলের মন্তব্যকে আরেক ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ, রাহুল। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’