প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১০ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসায় ৯ মাসে ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার: জেএমবিএফ

এ সময় ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন তারো আসো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেও ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজ খুলবে ১ নভেম্বর

বৈঠকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন তারো আসো। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণের বড় একটি অংশ তরুণ। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে দেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা জানান তিনি। উভয় পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে তারো আসোর সঙ্গে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং জাপানের সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।