৭৮ বছরে সিপিবি: শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লড়াই জোরদারের আহ্বান
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রতিষ্ঠার ৭৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও মেহনতি মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একই সঙ্গে শোষণ-বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও লাল পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি এ দেশে শ্রমিক-কৃষকসহ নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। সমাজতন্ত্রের আদর্শে একটি সমতাভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই পার্টির লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে তাইফুল ইসলাম টিপুর আবেগঘন বিদায়
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিপিবির ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলা হয়, ১৯২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরে ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ সিপিআইয়ের দ্বিতীয় কংগ্রেসে সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা পৃথক অধিবেশনে মিলিত হয়ে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন এবং একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটিও গড়ে তোলেন।
পরবর্তীকালে ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটির চতুর্থ সম্মেলনে পৃথক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সম্মেলনকে পার্টির প্রথম কংগ্রেস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদ উন্মুক্ত করলেন নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই কমিউনিস্ট কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন শুরু হয়। হত্যা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও মামলা-হুলিয়ার কারণে বহু নেতা-কর্মীকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দি কমিউনিস্টদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সাতজন শহীদ হন—যা সে সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
এ সময় পূর্ব পাকিস্তানে তেভাগা, নানকার ও টংকসহ বিভিন্ন কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করার পাশাপাশি ছাত্র ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কমিউনিস্ট পার্টি। দেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন গণসংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও পার্টির অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
সিপিবির নেতৃত্ব আরও উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পার্টি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতেও তারা আন্দোলন চালিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির অবদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি:
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘মুক্তি ভবন’-এর সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে লাল পতাকা মিছিল আয়োজনের কথাও জানিয়েছে সিপিবি।





