প্রকল্পের সুফল পৌঁছাতে হবে শ্রমজীবীর ঘরে: সাকি
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য কেবল ফাইলের হিসাব বা অবকাঠামোর দৃশ্যমানতায় নয়—তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন সেই সুফল পৌঁছাবে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ঘরে। এমন বার্তাই দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হবে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং যারা দেশের সম্পদ সৃষ্টি করেন, তাদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হয়। শ্রমজীবী মানুষ যেন প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে দেখতে গেলেন ডা. রফিক
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের মনে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা আরও জোরদার করেছে। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেই সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সাকি বলেন, “বৈষম্য কমিয়ে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা মানুষের জীবনমানেও প্রতিফলিত হবে।”
উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বজায় থাকবে:
আরও পড়ুন: এবার রাজনৈতিক বিতর্কে ইনকিলাব
চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থামিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোথাও থামবো না। কাজের গতি বজায় রেখে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করা হবে। যেখানে সংশোধন দরকার, সেখানে পরিমার্জন হবে—কিন্তু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক-সামাজিক ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনাই হবে অগ্রাধিকার।
পরিকল্পনাই পরিবর্তনের ভিত্তি:
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে সরকারের ‘ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব। “পরিকল্পনার মান ঠিক না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হয় না,”—মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিনিয়োগ বাড়িয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





