সালমান ও আনিসুলের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলী (২৪) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: ধর্ষক নূরাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) নৌপথে পালানোর সময় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের ছাড়া বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাদশা
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাইনুল হাসান বলেন, ‘নিউমার্কেট থানায় করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক পালানোর চেষ্টা করছেন গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবর পেয়ে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। নিরাপদ রুট মনে করে এ দুই নেতা নৌপথে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তখন সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে ১৬ জুলাই ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। একজন ছাত্র ও একজন হকার। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনজীবী আনিসুল হক ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ওই বারই তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়। এরপর থেকে তিনি আইনমন্ত্রীর পদে ছিলেন।
সালমান এফ রহমান এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি ও বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে সালমান এফ রহমান ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হন। পরে তাকে নিজের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপরই সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীরা গা-ঢাকা দেন। তাদের কেউ কেউ দেশ ছাড়েন বলেও খবর পাওয়া গেছে।





