ব্যবসায়ীকে বালুতে পুঁতে চাঁদা আদায়, বিএনপি নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে বুকসমান বালুতে পুঁতে রেখে চার কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের মামলায় আলোচিত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। রোববার (২১ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাহউদ্দিন খান যশোরের আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি তার পদ স্থগিত করেছে। তিনি অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌবন্দর এলাকার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির তিন ‘অপরাধের’ অভিযোগে ভাষণ বর্জন: জামায়াত আমির

এই মামলায় জনির বাবা কামরুজ্জামান মজুমদারসহ আরও আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— কামরুজ্জামান মিঠু, এনায়েত হোসেন শান্টু, বায়েজিদ হোসেন তরফদার, মারুফ হাসান তুহিন, রুহুল আমিন, সম্রাট হোসেন বাবু, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও সৈকত হোসেন হিরা।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত ৩ আগস্ট ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। শুরুতে ছয়জনকে আসামি করা হলেও তদন্তে আরও চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সার আক্রান্ত সুমনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারেক রহমান

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর আসামি সৈকত হোসেন হিরা কৌশলে ব্যবসায়ী টিপুকে আসাদুজ্জামান জনির অফিসে নিয়ে যান। সেখানে জনি তাকে মারধর ও আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে আরটিজিএসের মাধ্যমে জনির প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দুই কোটি টাকা পাঠালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর কয়েক দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে আবারও টিপুকে অপহরণ করা হয়। চিলিশিয়া গ্রাম থেকে বাজারে যাওয়ার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার গতিরোধ করা হয়। পরে তাকে জনির মালিকানাধীন ‘কণা ইকো পার্কে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জনি, সম্রাট হোসেন বাবু ও মফিজুর রহমান অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করেন এবং বুকসমান গর্ত খুঁড়ে বালুতে পুঁতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও দুই কোটি টাকা দাবি করেন।

চাপের মুখে টিপু তার ব্যবস্থাপককে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। পরে ব্যবস্থাপক পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠান।

এই ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে।