রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার বিএনপিরঃ ড. এম এ কাইয়ুম

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:০১ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, দেশে আর কোনোভাবেই রাজনৈতিক কারণে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও গুম-খুনের নির্যাতন চালিয়েছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য।

রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ-২ আসনে একই পরিবারের তিন প্রার্থী, ভিন্ন দল—রাজনীতিতে ত্রিমুখী সমীকরণ

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি কীভাবে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন—এসবের মাধ্যমে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষ আর এই ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন দেখতে চায় না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের নামে দেশের অর্থনীতি লুটপাট করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে দলীয় স্বার্থ হাসিল করেছে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আজ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি মির্জা ফখরুলের

বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. কাইয়ুম বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়ন করা হবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য করা হবে।

ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের এই নেতা আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিএনপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে তরুণদের জন্য নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের এগিয়ে না নিলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি নারীকে সামনে রেখেই দেশের উন্নয়ন করতে চায়। তিনি জানান, নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুট করেছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং কোনো খাতে যেন দুর্নীতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

বক্তব্যের শেষে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিএনপি একটি গণমানুষের দল। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই আমাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। জনগণের ভোট ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।