চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা গণস্বার্থের পরিপন্থী: স্বচ্ছ আলোচনার দাবি ফরহাদ মজহারের
চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারাকে গণস্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, বন্দর ইজারার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করে নিতে হবে। কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বন্দর ইজারা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বন্দর সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বন্দরের শ্রমিক, আলোচক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তারেক রহমানের, এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাস বিএনপির
ফরহাদ মজহার বলেন, “প্রশ্ন হলো—আমরা জনগণকে স্বচ্ছভাবে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কি না। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি চলতে দেওয়া যায় না। বিদেশি কোম্পানি বন্দর নিলে তারা শুধু মুনাফার কথা ভাববে, কিন্তু বিপদের সময়ে রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমলাদের একতরফাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সংসদের সার্বভৌমত্বের নামে ক্ষমতা ধীরে ধীরে লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে চলে যাচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়তে বিএনপির ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার
বন্দরকে দেশের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক হলেও বন্দর অচল হলে তা বিদেশি কোম্পানির হাতে হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমেই গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।”
সভায় বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে গেলে প্রায় ৮০০ কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং দেশি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।”
অপর সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করে বলেন, “কৃত্রিমভাবে আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা হলেও চুক্তি হচ্ছে অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে, যার বোর্ড ও কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চুক্তির পূর্ণ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ জরুরি।”





