দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের প্রতিবেদন

নির্বাচনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১২ পূর্বাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনিশ্চয়তা, যেখানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ কার্যত দৃশ্যপটের বাইরে।

২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ এমন একটি তুলনামূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। তবে আসন ব্যবধান এবং শেষ মুহূর্তের ভোটের গতিপথ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নেই।

আরও পড়ুন: ভোট দিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তারেক রহমান

নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটির প্রায় চার কোটি নিয়মিত ভোটার বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছেন। সিআরএফ ও বিইপিওএসের জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন, যা দলটিকে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিতে পারেন—এমন আভাসও মিলছে জরিপে। বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে তুলনামূলকভাবে সমান ভোট পেলেও আসন জয়ের ক্ষেত্রে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় কাঠামোগত সুবিধায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন বর্জনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই ১১-দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

তবে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অন্তত ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন, যা প্রায় ৭৯টি আসনে ভোট বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিএনপির সম্ভাব্য ১৫ থেকে ৩০টি আসন হাতছাড়া হতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শক্তির অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছেন তরুণ ভোটাররা। দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই ‘জেন-জি’ ভোটাররা যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তাহলে নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী সরকার কতটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয় পেতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী প্রায় ৮০টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হতে পারে।

তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব, তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের ভোটের গতিপথের ওপর ভিত্তি করে এই সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।