৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
হলভিত্তিক সভা ও লিফলেট বিতরণে জোর, ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরাও
ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রনেতারা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করতে সংগঠিত প্রস্তুতি শুরু করেন। আগের দিন সরকারের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পরও আন্দোলনের গতি কমেনি; বরং আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন হলভিত্তিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতারা হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভাগুলোতে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়।
আরও পড়ুন: আন্দোলনের তীব্রতা টের পেয়ে নজরদারি বাড়ায় সরকার
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়। এসব লিফলেটে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি, সরকারের অবস্থান এবং আসন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।
৬ ফেব্রুয়ারির এই কার্যক্রমে শুধু ছাত্রনেতারাই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা হতে দেখা যায়। আন্দোলন নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও দৃশ্যমানভাবে বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন: ক্লাস বর্জন ও মিছিলে উত্তাল ঢাকা, রাজপথে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি
এই দিন থেকে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীরাও যুক্ত হতে শুরু করেন। কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সভা ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং ভাষার প্রশ্নটিকে কেবল রাজনৈতিক দাবির বাইরে এনে একটি সাংস্কৃতিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরে।
প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এসব সভা ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলতে থাকে। আন্দোলনকারীরা সতর্কতার সঙ্গে কর্মসূচি পরিচালনা করেন, যাতে প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও প্রস্তুতি ব্যাহত না হয়।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ৬ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দিনেই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ভিত্তি পায় এবং ছাত্রসমাজের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীদের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন ধীরে ধীরে সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে।
এই সংগঠিত প্রস্তুতির ফলই পরবর্তী দিনে আন্দোলনকে আরও দৃঢ় ও ব্যাপক করে তোলে, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে।





