১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে সংগঠিত প্রস্তুতিতে উত্তাল ঢাকা
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ২১ ফেব্রুয়ারির ঘোষিত কর্মসূচিকে সামনে রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও সংগঠনের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রসমাজ ও আন্দোলনের সংগঠকেরা এদিন আন্দোলনকে সুসংগঠিত রূপ দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালান।
বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রনেতাদের ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে ধর্মঘট, মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়সূচি, রুট এবং সম্ভাব্য বাধা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেন- প্রশাসনিক চাপ বা বাধা এলেও শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান বজায় রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রিফাইন্ড থেকে নতুন করে রিকনসিলিয়েশন
এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করা হয়। আন্দোলনকে রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে দিতে লিফলেট বিতরণ, ক্ষুদ্র সভা ও প্রচারণা চালানো হয়। কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্ররা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রচারণা চালান।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সতর্কতা বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য গণসমাবেশ ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে ছাত্রসমাজের মধ্যে কোনো ধরনের ভীতির লক্ষণ দেখা যায়নি; বরং দৃঢ়তা ও প্রস্তুতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: আবারো কঠোর অবস্থানে বিএনপি, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা
ঐতিহাসিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ছিল ভাষা আন্দোলনের সংগঠিত রূপের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন- যে দিনটি মূলত আন্দোলনের কৌশলগত ভিত্তি মজবুত করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারির অবিস্মরণীয় ঘটনার পথ সুগম করে দেয়।





