প্রথমার্ধে আধিপত্য মরক্কোর, ছন্দহীন ব্রাজিল ফিরল ভিনিসিয়ূসের গোলে
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে মরক্কো। যদিও বিরতিতে দুই দল ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছাড়ে, তবু সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চাপে রাখে মরক্কো। মাঝমাঠে তরুণ বেনজামিন এল আইনুই ছিলেন দলের অন্যতম চালিকাশক্তি। তার নেতৃত্বে মরক্কোর হাই-প্রেসিং কৌশল ব্রাজিলের মাঝমাঠকে কার্যত অকার্যকর করে তোলে। কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা পুরো প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারেননি।
আরও পড়ুন: তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু অস্ট্রেলিয়ার
উইংয়ে আশরাফ হাকিমির গতিময় উপস্থিতি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বারবার বিপদে ফেলে। বিশেষ করে বাম প্রান্তে দগলাস সান্তোসকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। দ্রুত পাস আদান-প্রদান ও ওয়ান-টাচ ফুটবলের মাধ্যমে মরক্কোর আক্রমণভাগ ব্রাজিলের ডি-বক্সে একাধিকবার হুমকি তৈরি করে।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল মরক্কো। তবে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস শেষ মুহূর্তে শরীর দিয়ে বল আটকে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন। এরপরও ২১তম মিনিটে রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে গোল আদায় করে নেয় মরক্কো। গোলটির সময় মার্কিনিওস ও আইবানেজের অবস্থানগত ভুল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি ছিল প্রকট। মাঝমাঠ থেকে পর্যাপ্ত বলের জোগান না পাওয়ায় ভিনিসিয়ূস জুনিয়রও প্রথমদিকে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। তবে ব্যক্তিগত দক্ষতায় দারুণ এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি, যা প্রথমার্ধে ব্রাজিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত হয়ে থাকে।
এদিকে ব্রাজিলের নতুন মুখ ইগর থিয়াগোও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের কাছ থেকে নেওয়া তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয়। প্রথমার্ধে এটিই ছিল ব্রাজিলের অন্যতম সেরা সুযোগ।
সব মিলিয়ে স্কোরলাইন সমতায় থাকলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে মাঠের খেলায় মরক্কোই ছিল অধিক সংগঠিত ও প্রভাবশালী দল। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে নিজেদের খেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে হবে ব্রাজিলকে।





