ঢাকার অটোরিকশা-ই-বাইকে নতুন নিয়ম
রাজধানী ঢাকায় অটোরিকশা ও ই-বাইকের চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রং ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ফলে এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আরও পড়ুন: চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ২৬ মিনিট বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকাকে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার জন্য এসব জোনের মধ্যে চারটি জোনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
প্রতিটি জোনের অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে একটি জোনে সবুজ এবং অন্য জোনে কমলা রঙের রিকশা রাখা হতে পারে। এভাবে চারটি জোনে চার ধরনের রং ব্যবহার করা হবে। এর ফলে কোন অটোরিকশা কোন জোনের জন্য অনুমোদিত, তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
আরও পড়ুন: একনেকে একসঙ্গে ৩ মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন
প্রতিটি জোনে অটোরিকশার চাহিদা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা ঠিক করা হবে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ একটি জোনে যত সংখ্যক অটোরিকশার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হবে, সেই সীমার মধ্যেই নিবন্ধন দেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা নিয়ে রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত চলে যাওয়া সম্ভব। অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার অন্যতম কারণ এটিও। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জোনভিত্তিক এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে যারা অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হচ্ছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তার ভাষ্য, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে অটোরিকশা রাজধানীতে চলাচল করে যাতে যানজট সৃষ্টি বা মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। তাই এটি শুধু অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা—সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সরকারের প্রধান শক্তি জনগণ। কোনো ধরনের অরাজকতা বা অপশক্তি মোকাবিলা করা হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিবাদ করা হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, জোনভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণ, যানবাহনের সংখ্যা সীমিত রাখা এবং আলাদা রঙের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু হলে রাজধানীতে এসব যানবাহনের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।





