এসিল্যান্ডের উপর হামলার চেষ্টা...

সেনাবাহিনীর হাতে কথিত সমন্বয়ক গ্রেপ্তার

Sanchoy Biswas
চুনারুঘাট(হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ | আপডেট: ১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর উপর হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনীর অভিযানের কথিত সমন্বয়ক ফরহাদ ইবনে রুমি (২৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বুধবার ভোর ৫টায় শাহজিবাজার আর্মি ক্যাম্পের (১৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে) ক্যাপ্টেন আরাফি তাজোয়ার আমিন নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর দল ফরহাদ ইবনে রুমির নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার রুমি চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের পুত্র।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা

মঙ্গলবার চুনারুঘাটের নতুন ব্রিজ এলাকায় আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) মাহবুব আলম মাহবুব। এতে ফরহাদ ওরফে রুমি নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সহকারী কমিশনারের সাথে অশুভ আচরণ করে। একপর্যায়ে অভিযানের সময় লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী মো. ফরহাদ ওরফে রুমি গংরা উবাহাটা মৌজার খাস খতিয়ানে আনুমানিক ২০ ফুট রাস্তা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে। উক্ত খাস জমি উবাহাটা মৌজায় মো. বাবু মিয়ার ভূমির সম্মুখ ভাগ হওয়ার কারণে বাবু মিয়া ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরহাদ ওরফে রুমি গংদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার মিস মামলা নম্বর - ৩/২০২৪(চুনা) পরবর্তীতে গত ২১/০৫/২০২৪ ইং অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ম পক্ষ মো. বাবু মিয়ার পক্ষে আদেশ প্রদান করেন। ওই আদেশের পর  সহকারী কমিশনার ভূমি উচ্ছেদ করতে গেলে রুমি বাধা দেয়।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় তার চুরি করতে এসে শর্টসার্কিটে প্রাণ গেল চোরের

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুব আলম মাহবুব জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে উক্ত স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গেলে ফরহাদ সরকারি কাজে বাধা দিয়ে হামলার চেষ্টা করে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ওসি নুর আলম জানান, সেনাবাহিনী হস্তান্তর করার পর বাবুল মিয়ার দায়েরকৃত মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, ফরহাদ যুবলীগ কর্মী হলেও ৫ আগস্টের পর সমন্বয়ক বনে গিয়ে  তার এলাকার মানুষকে নির্যাতন করে আসছে। শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সমন্বয়ক পরিচয়ে চিনি ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। সে একটি হত্যা মামলা আসামি এবং ১৩ মাস জেল কেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। ২০২৪ সালে চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা সড়ক থেকে ফরহাদ ওরফে রুমির নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা আজমান সহ তার লোকজন সমন্বয়ক পরিচয়ে একদল যুবক চালক ও মালিককে মারধর করে চিনি বোঝাই ট্রাক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনার পরদিন অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার করিমপুর গ্রামের রুবেল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে আটক করলেও অদ্যাবধি চিনির বস্তা উদ্ধার হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ, আজমান সহ সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে।

এদিকে রুমি গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা রুজু হয়েছে।