ডিজি এফআই পরিচয়ে নবীনগরে অপহরণ করে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, অবশেষে উদ্ধার

Sanchoy Biswas
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৫ | আপডেট: ৩:২৫ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে ডিজিএফআই পরিচয় দিয়ে স্থানীয় সৌদি প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালু মিয়ার ছেলে রিফাত মিয়াকে (১৯) অপহরণ করার ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৫ টার দিকে জেলার কসবা থেকে রিফাতকে উদ্ধারসহ এক অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গভীর রাতে রিফাতকে কসবা থেকে নবীনগরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছিল বলে একটি সূত্র জানায়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ২৪ হাজার কেজি অবৈধ সারসহ ট্রাক আটক

উদ্ধার হওয়া রিফাতের বাবা ব্যবসায়ী মালু মিয়ার অভিযোগ, খোদ্ পুলিশের উপস্থিতিতেই আগের দিন সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে সন্ত্রাসীরা নিজেদেরকে ডিজিএফআই পরিচয় দিয়ে তার ছেলে রিফাতকে নির্বিঘ্নে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

আর অপহরণের চার ঘণ্টা পর রাত ৩ টার দিকে মুঠোফোনে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও রিফাতের বাবা সৌদী প্রবাসি শহীদুল ইসলাম মালু অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি (মালু) পরদিন মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও (এজাহার) দাখিল করেন। 

আরও পড়ুন: শত শত বিঘা জমি জলসিড়ি প্রজেক্টের দখলে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এহতেশামুল হক রিফাতকে উদ্ধার ও একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে গোটা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া রিফাতের বাবা সৌদী প্রবাসী শহীদুল ইসলাম মালু পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাংলাবাজার কে বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে ১৭/১৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল আমার লাউর ফতেপুরের বাড়িতে হানা দেয়। এসময় তারা আমার দ্বিতল ভবনের তিনটি গেইট ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে। এসময় আমি দুর্বৃত্তদের আগমন টের পেয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে সামান্য অদূরে থাকা পাশের জমিতে লুকিয়ে থাকি। তবে অন্ধকারের মধ্যে জমিতে লুকিয়ে থেকেও আমি প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে আমার বাড়িতে যে তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা, তা প্রত্যক্ষ করি।

শহীদুল ইসলাম মালু বলেন, সংঘবদ্ধ ওই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তখন নিজেদেরকে ‘ডিজিএফআই’ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। এসময় তারা আমার ভবনের ভেতর তছনছ করে স্ত্রীর কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে ঘরে থাকা ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও আমার ছোট ছেলে রিফাতকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়।

তবে এই ফাঁকে আমি জমিতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক স্যারকে ফোন দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাই। ওসি স্যার তখন আমাকে বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। তবে তিনি পুলিশ পাঠাচ্ছেন। 

এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই থানা থেকে দুই দারোগা আবদুল মন্নাফ ও রাম কানাই সরকারের নেতৃত্বে ৭/৮ জন পুলিশ আমার বাড়িতে আসেন। কিন্তু দু:দুঃখজনক হল, আমি দেখলাম, পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের বদলে সেসময় সন্ত্রাসীদের সাথে মেলাক্ষণ ধরে পুলিশ শলা পরামর্শ করলো। 

এ সময় দারোগা মন্নাফ সাহেবকে কমপক্ষে ২০ বার ফোন করি। কিন্তু তিনি আমার ফোন না ধরে সন্ত্রাসীদের সাথে আলাপ চারিতা করেই যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে এতগুলো পুলিশের উপস্থিতিতেই নগদ ২ লাখ টাকা, ২৭ ভরি স্বর্ণ ও আমার ছেলেকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে আমার বাড়ি থেকে চলে যায়। এদের সঙ্গে পুলিশও আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী মালু আরও বলেন, এ ঘটনার ঠিক চারঘন্টা পর অপহরণকারীরা ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে আমার কাছে ফোন করে নগদ ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। 

পরদিন মঙ্গলবার আমি নবীনগর থানায় গিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ (এজাহার) দাখিল করি। ওই এজাহারে সন্ত্রাসীদের যে তিনজনকে আমি চিনেছি, তাদের (তিনজন) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করি। ওই তিন আসামি হলেন আমার লাউর ফতেপুর গ্রামের কামাল মিয়া ও কামাল খন্দকার এবং বাড়িখলা গ্রামের আবু কালাম আজাদ।

সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালু দু:খ করে বলেন, ‘পুলিশ আমার বাড়িতে আসার পরপরই যদি সন্ত্রাসীদের সাথে বৈঠক না করে এদেরকে গ্রেপ্তার করতেন। তাহলে আমার ২৭ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২ লাখ টাকা রাতেই ফেরত পেতাম। কিন্তু কেন পুলিশ উপস্থিত থেকেও আমার ছেলেকে অপহরণ করার সুযোগ করে দিলেন, আমি সেটিই বুঝতে পারলাম না’

তবে ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর যৌথ বাহিনী যেভাবে অভিযান চালিয়ে আমার ছেলেকে উদ্ধারসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, সেজন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এ বিষয়ে কথা বলতে নবীনগর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক ও দারোগা আবদুল মন্নাফের মুঠোফোনে বারবার কল দেয়া হলেও, এরা কল রিসিভ করেননি।

পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এহতেশামুল হক  বলেন, অপহরণ হওয়া যুবক রিফাতকে  উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।  অভিযান অব্যাহত আছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে।