শ্রীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচনায় পৌর বিএনপি নেতা শামীম
শ্রীপুর থানার অন্তর্গত ভাঙ্গাহাটি এলাকায় সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান সফটটেক্স এবং “মা এন্টারপ্রাইজ” এর মধ্যে ২০১৬ সাল থেকে চলমান চুক্তিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।
“মা এন্টারপ্রাইজ” এর প্রোপাইটার আলহাজ্ব জাহেদুল কবির ভাঙ্গি একজন সুপরিচিত সমাজসেবক। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে গঠন করেছেন ‘নোয়াব-খাদিজা ট্রাস্ট’। উক্ত ট্রাস্টের অধীনে একটি মাদ্রাসা, একটি মসজিদ, একটি ঈদগাহ মাঠ এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয়ের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে নেওয়ার হুমকি রুমিন ফারহানার, ভিডিও ভাইরাল
তবে এসব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে পেছনে ফেলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীম। দলীয় পদ পাওয়ার পর থেকেই তার কার্যকলাপে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন।
একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মো. শামীম একটি পরিকল্পিত চক্রের মাধ্যমে অল্প টাকার বিনিময়ে চাঁদা দাবি করে আসছেন। যারা তার দাবিকে অগ্রাহ্য করছেন, তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আবদুল হাইয়ের ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর থানায় মোঃ শামীমের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর বর্তমানে বিষয়টির তদন্ত করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই তদন্তকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মোঃ শামীম ও তার মদদপুষ্ট গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগের সারবত্তা যেন প্রকাশ না পায়, সে উদ্দেশ্যে তারা প্রশাসনিক মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা চান, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা যাতে পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার তদন্তকারী অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং সেটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে পৌর বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও বিব্রত। কেউ কেউ জানিয়েছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং দলে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এই ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে।





