ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিমান হামলা—‘অপারেশন এপিক ফিউরি’—শুরুর এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই নিজেদের অত্যাধুনিক ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগন যে হারে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করছে, তাতে আর মাত্র ‘কয়েক দিন’ পরই কোন লক্ষ্যবস্তুকে আগে রক্ষা করা হবে—তা নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।

আরও পড়ুন: লেবাননে দূতাবাসে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ইরানের ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এই ব্যাপকতা মার্কিন কমান্ডারদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে—ইরান কত দ্রুত নিজেদের গোলাবারুদ শেষ করতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো এখনও বাকি।” তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD)-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শত শত ইন্টারসেপ্টর ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি ইরানি নেতৃত্ব ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা জবাবে বাহারাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হাজার হাজার ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। রিয়াদ ও কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অস্ত্র ব্যয়ের এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। সীমিত মজুত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।