চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক সিকদার লিটন ফরিদপুরে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার

Sanchoy Biswas
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১:২২ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হত্যা, চাঁদাবাজিসহ কয়েক ডজন প্রতারণা মামলার আসামী ভন্ড, প্রতারক, চাঁদাবাজ সিকদার লিটন গ্রেপ্তার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ ও উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজের নেতৃত্বে একটি দল সিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় খাল দখল করে ভবন নির্মাণ, উচ্ছেদ করলো প্রশাসন

এ বিষয়ে মামুনুর রশিদ বলেন, “চাঁদাবাজির অভিযোগে সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে কোতায়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় আজ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটু পর আমরা তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব।”

সিকদার লিটন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর হোসেন বুলবুলের পিএস ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন এমপির ছত্রছায়ায় নানা অপকর্মে জড়িত ছিল সিকদার লিটন। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন, একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে করা বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলার এজাহারনামীয় আসামি সে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জন

২০২০ সালে একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সিকদার লিটনকে ভাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও প্রতারণামূলক মিথ্যা মামলা বাণিজ্য শুরু করে সিকদার লিটন। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ অনেকের নামে মিথ্যা মামলা দেয় সে।

এর আগে চলতি বছরের ৫ মে ঢাকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় ফরিদপুর থেকে ডিবি পুলিশ সিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করে।

সিকদার লিটন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। মামলা বাণিজ্যে পারদর্শী লিটনের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিকাশে তিন মাসে সাড়ে ২২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে।

পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন কারাগারে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান জাবেদ নামে একজন যুবক। নিহতের পরিবারের সঙ্গে লিটনের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও খালাতো ভাই দাবি করে কেরানীগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করে লিটন সিকদার।

এই মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সে। ঘটনা জানাজানি হলে নিহত জাবেদের ভাই মাইনুদ্দীন ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।