তাজরীন ট্র্যাজেডির ১৩ বছর : ১১১ মোমবাতিতে স্মরণ
তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডের ১৩তম বার্ষিকীতে নিহত ১১১ জন শ্রমিককে স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, আহত শ্রমিক এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশনসের পোড়া ভবনের সামনে এই শোকাবহ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: সারিয়াকান্দিতে রংধনু গ্রামীণ সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
শীতার্ত রাতে পোড়া ভবনের সামনে ১১১টি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপস্থিতরা। এ সময় নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের কান্না ভেজা চোখে ভেসে ওঠে ১৩ বছর আগের সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি।
আরও পড়ুন: জাজিরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৪
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতারা জানান, ১৩ বছর পার হলেও এখনো অধিকাংশ আহত শ্রমিকের সুচিকিৎসা হয়নি, অনেকেই পঙ্গুত্ব নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিহতদের পরিবারও পাননি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ। তারা অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষের গাফিলতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক প্রাণহানি প্রকৃত অর্থেই একটি হত্যাকাণ্ড। এ সময় কারখানার মালিক দেলোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি তোলেন সবাই।
সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্টু বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডিতে ১১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন আরও শতাধিক। এখনো অনেকের যথাযথ চিকিৎসা হয়নি, ক্ষতিপূরণও সম্পূর্ণ দেওয়া হয়নি। আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিত্যক্ত এই ভবনটিকে শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল করার দাবি জানাই।
সেদিনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আগুন লাগার পরও শ্রমিকদের বের হতে দেওয়া হয়নি। গেটে তালা মেরে রাখা হয়েছিল, যার কারণে ১১১ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান। বহু শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আজ তাদের স্মরণে আমরা ১১১টি মোমবাতি প্রজ্বলন করেছি। দেলোয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার চাই, এবং আহত–নিহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ চাই।
কর্মসূচির শেষে নিহত শ্রমিকদের মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়। নীরব সেই মুহূর্তে তাজরীন ট্র্যাজেডির বেদনা আবারও নতুন করে ফিরিয়ে আনে উপস্থিত শ্রমিক–শ্রমিক নেতাদের হৃদয়ে।





