কাপাসিয়ার কৃতিসন্তান প্রাক্তন সচিব আইয়ুবুর রহমান খানের জানাজা সম্পন্ন

Sanchoy Biswas
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২০ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তারাগঞ্জ অঞ্চলের নাশেরা গ্রামের কৃতি সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি মো: আইয়ূবুর রহমান খানের দ্বিতীয় জানাজা নামাজ ও দাফন বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সকাল ৮ টার সময় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছর।

উপজেলার তারাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজে শরিক হয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, সাবেক সচিব মোঃ মোতাহার হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মোঃ সামসুদ্দীন খান, সদস্য সচিব মোঃ মফিজ উদ্দিন, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল কাকন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুল হক চৌধুরী আইয়ুব, বেগুনহাটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নূরুজ্জামান, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর, দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুম সরকার প্রমুখ। এর আগে বিকালে ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজে শরিক হয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। 

আরও পড়ুন: সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি মুক্তাবিস উন-নূর, সম্পাদক সিরাজ

জানাজা নামাজের আনুষ্ঠানিকতার পরিচালনা করেন অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন ও অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম। জানাজা নামাজ পড়ান বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ আল আহসান। এর আগে মরহুমের জৈষ্ঠ্য পুত্র অনিক উপস্থিত মুসল্লিদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দোয়া প্রার্থনা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কাপাসিয়া উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের নাশেরা গ্রামের মাটি ও মানুষের সূর্য সন্তান আইয়ূবুর রহমান খান ছিলেন শত বছরের ঐতিহ্যবাহী  তারাগঞ্জ এইচ এন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের (এস এস সি) ৭১ ব্যাচের সেরা  ছাত্র। তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র ছিলেন।   

আরও পড়ুন: কাশিয়ানীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবক নিহত

মহান পেশা শিক্ষকতা দিয়ে তিনি কর্ম জীবন শুরু করেন। স্নাতকোত্তর পাশ করে তিনি কিছু দিন তার প্রাণপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারাগঞ্জ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি মনোহরদী কলেজে বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কয়েক বছর অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে নরসিংদী সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে সুনামের সাথে বেশ কয়েক বছর অধ্যাপনা করেন। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করার পূর্ব পর্যন্ত তিনি একজন আদর্শিক শিক্ষক হিসেবে জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। মাঠ প্রশাসনে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বর্ণাঢ্য কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। 

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, কাপাসিয়ার সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ, তারাগঞ্জ মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং তারাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ এলাকার নানা উন্নয়নে আইয়ুবুর রহমান খানের অবদান সোনার হরফে লেখা থাকবে। 

তিনি বিআরটিএ'র চেয়ারম্যান ছিলেন। কর্মজীবন শেষ হলেও সামাজিক কর্মকান্ড থেকে আদৌ অবসর গ্রহণ করেননি। তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এর সাথে সম্পৃক্ত এবং যাত্রী কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা। তিনি তারাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সফল চেয়ারম্যান ছিলেন।       

তিনি কিছুদিন সংবাদপত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের আন্তর্জাতিক পাতার সম্পাদনার কাজ করেছেন। তিনি কাপাসিয়া থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক শীতলক্ষ্যা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পদক ছিলেন।      

সৎ ও নীতি আদর্শের মূর্ত প্রতীক আলোকিত এই সোনার মানুষটি অসুস্থ শরীর নিয়ে সবসময়ই  এলাকার মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করেছেন । সপ্তাহে ৩ দিন ডায়ালসিস করতেন।। তার পরও প্রতিদিন এলাকার মানুষের সাথে মোবাইলে কথা বলে খোঁজখবর নিতেন। নাড়ির টানে অসুস্থ শরীর নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতেন। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে বুকের মাঝে শান্তি অনুভব করতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। তাঁর সহজ সরল ও সৎ জীবন যাপনের জন্য এলাকার মানুষ আইয়ূবুর রহমান খানকে মর্তের ফেরেশতা হিসেবে অভিহিত করতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা যেনো তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।