কুড়িগ্রামে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

Sanchoy Biswas
মমিনুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৪ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তীব্র শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষজন ঘর ছেড়ে বের হতে পারছেন না। এ কারণে দিনমজুর, ভ্যান-রিকশা চালক ও শিক্ষার্থীরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেরি করছেন।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সরেজমিন দেখা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দিনের বেলা সূর্যের আলো না ওঠায় মানুষ কাজের জন্য বের হওয়া পর্যন্ত দেরি করছেন। থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া গ্রামের দিনমজুর মনজু মিয়া বলেন, “বেলা প্রায় ১১টা হলেও কাজের জন্য ঘর থেকে বের হতে পারিনি। আমরা গরিব মানুষ; জামা কাপড়ও যথেষ্ট নেই। কাজ না করতে পারলে সংসারের কিস্তি টাকার যোগাড় হবে না।”

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নামলো ৬ ডিগ্রিতে, জনজীবন স্থবির

তবে কুয়াশা ও শীতের কারণে রিকশা ও ভ্যানচালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। তবকপুর এলাকার ভ্যানচালক মোক্তার আলী বলেন, “গত দুইদিন শীত অনেক বেড়েছে। শীতের কারণে গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, নাক দিয়ে পানি পড়ছে। ভাড়া পাওয়া কমে গেছে, আয় কমেছে।” খামার নারিকেল বাড়ি এলাকার অটোরিকশা চালক আতাউর রহমানও বলেন, “সকাল থেকে হেডলাইট জ্বালিয়ে যাত্রী নিলেও কুয়াশার কারণে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। প্রতিদিন এমন হলে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”

শিক্ষার্থীরাও শীত ও কুয়াশার কারণে পড়াশোনায় সমস্যায় পড়ছেন। কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “প্রাইভেট পড়ার জন্য বাইসাইকেলে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কুয়াশা ও ঠান্ডা অনেক কষ্ট দিচ্ছে। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: ভোলায় ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্কে মানুষ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাঈদুল ইসলাম জানান, “শীতের কারণে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও হাঁপানির রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডায়রিয়ায় আক্রান্তরাও রয়েছেন।”

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছবুর মিয়া জানান, “উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা আরও তিন দিন বয়ে যেতে পারে।”