ভোলায় ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্কে মানুষ
ভোলার উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত ভোরে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি, মসজিদ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। অনেকেই ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় দালান-কোঠা ও বসতঘর কেঁপে ওঠে। কোথাও কোথাও পুকুরের পানিতেও ঢেউ দেখা যায়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা
মনপুরা উপজেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও দারুস সুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম এনায়েত উল্লাহ নুরনবী জানান, ফজরের নামাজ চলাকালীন সময় হঠাৎ করে মসজিদ কাঁপতে শুরু করে। মুসল্লিদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সাংবাদিক সজিব মোল্লা ও মো. রাকিব বলেন, ভোরের দিকে কম্পন অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়ি নড়াচড়া করতে থাকে। অনেকেই বিষয়টি প্রথমে বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় তার চুরি করতে এসে শর্টসার্কিটে প্রাণ গেল চোরের
মাদ্রাসার রোড এলাকার বাসিন্দা আয়শা ছিদ্দিকা বিথী, হুমায়রা আবদুল্লাহ, আকলিমা, মোস্তাফিজ, সাউদা, নুসাইবা ও আরওয়া জানান, ভূমিকম্পের সময় তাদের ঘরের আসবাবপত্র নড়াচড়া করে এবং পানির পুকুরে ঢেউ ওঠে।
হাজিরহাট মার্কাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. ইউসুফ বলেন, ফজরের নামাজের সময় পুরো মসজিদ কেঁপে ওঠে, যা মুসল্লিরা স্পষ্টভাবে অনুভব করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মনিপুর ও আসাম অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে এই কম্পন মনপুরা উপকূলে অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের মনিপুরে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে ভোলার মনপুরাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল। সে সময় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৫।





