নরসিংদীতে এলপিজি সিলিন্ডার উধাও, ভোগান্তিতে মানুষ
নরসিংদীর ৬টি উপজেলার সর্বত্রই এলপিজি সিলিন্ডার উধাও হওয়ায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ৪০ জন ডিলার রয়েছে। তাদের কারো কাছেই বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশেই বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৩০৬ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের কারণে তা ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়েই এসব গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন। শহর, উপজেলা এবং এর আশপাশ এলাকায় যারা বিল্ডিংয়ের বহুতল ভবনে বসবাস করেন তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনে মাটির চুলাও নেই। অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডার সংকট হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ গৃহিণী তীব্র শীত উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে মাটির চুলায় রান্নাবান্নার কাজ শেষ করছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী সুমি বেগম বলেন, অফিস শেষ করে বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তিতে রান্নার কাজ শেষ করবো সে কথা চিন্তাই করা এখন দুষ্কর। গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এমন সংকট চলতে থাকলে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বাসাবাড়িতে রান্না করা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে। এক কথায় বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছি। এদিকে সিলিন্ডার কিনতে আসা ফরহাদ ও মাহবুব মিয়া বলেন, গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের কারণে বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে হচ্ছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। গ্যাস না থাকলে আমরা রান্না করবো কীভাবে? কিভাবে খাব? বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।
আরও পড়ুন: জাজিরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৪
আরেক গৃহকর্মী লিজা বেগম বলেন, হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট হওয়ায় আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়বো।
এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী জেলা এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শামীম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সারাদেশে এলপিজি গ্যাস কোম্পানি রয়েছে ৩০টা। এর মধ্যে ২৪টা বন্ধ। বাকি ৫-৬টা কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় তিন শ্রমিক নিহত
এলপিজি ডিলার মনির খান বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না। গাড়ি নিয়ে এলপিজি গ্যাস প্লান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৬-৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে মাত্র ২০০ বোতল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে গ্যাসের দাম বেশি পড়ছে এবং ভোক্তাদের বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।





