ইজারাবিহীন মাহারাম নদীতে বালুখেকুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও সীমানা নির্ধারণের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন

Sanchoy Biswas
সাজ্জাদ হোসেন শাহ, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৭ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত ইজারাবিহীন মাহারাম নদীতে দিনে এবং রাতের আঁধারে লরি, ছোট ছোট পিকআপ ও অটোরিকশা দিয়ে অবাধে বালু-পাথর লুট প্রতিরোধ এবং মাহারাম নদী ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ধারণের দাবিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আবেদনটি করেন জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে মাদকের টাকার জন্য বাবাকে বেঁধে নির্যাতন, ছেলের দুই মাসের কারাদণ্ড

বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মাহারাম নদী বাঁধ রক্ষা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন জানিয়ে লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মাহারাম নদীটি এককালে তাহিরপুরের ‘মরণ ফাঁদ’ নামে পরিচিত ছিল। গত প্রায় দেড় যুগ আগে রাতের আঁধারে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মাহারাম গ্রামের শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল বোরো ফসল।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওর এলাকা খ্যাত তাহিরপুর উপজেলার কোপাউড়া, মহিষমারা, গোলাঘাট, বলদা, মাটিয়াইন, চুনখলা, সংসা, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আরও বেশ কয়েকটি হাওরের ফসল অকালে ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বহু আবাদি জমি অনাবাদি জমিতে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ১টি বিদেশী রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড গুলিসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

এরপর হাওরের ফসল রক্ষায় তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনসহ এলাকার সচেতন নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতায় মাহারাম নদীর মুখে সরকারি বরাদ্দ ও স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই বাঁধটি দেওয়া হতো। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ৩ বার সরকারি বরাদ্দে ওই বাঁধটি দেই এবং এর সুরক্ষার্থে নিয়মিত কলমীলতা বপন করি। ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক নিয়মে বাঁধটির মুখে চর পড়ে বাঁধটি মজবুত ও টেকসই হয়।

ফলে ২০০৮ সালের পর এই মাহারাম নদীর মুখে আর কোনো বাঁধ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। এতে করে বড়দল (উঃ), বড়দল (দঃ), শ্রীপুর (উঃ), শ্রীপুর (দঃ) এই ৪টি ইউনিয়নের ছোট বড় সবগুলো হাওর এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের কিয়দংশে থাকা হাওরগুলো পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পায়।

এরপর পতিত স্বৈরাচার সরকার ‘যাদুকাটা-১’ ও ‘যাদুকাটা-২’ বালুমহাল নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করে। এক পর্যায়ে এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী অসাধু বালুখেকো চক্র ইজারাস্থল অতিক্রম করে মাহারাম নদীর মুখে চর পড়ে থাকা বালুর স্তুপ থেকে প্রকাশ্যে এবং রাতের আঁধারে ট্রলি গাড়ি ও অবৈধ সেফ মেশিন চালিয়ে নৌকা দিয়ে মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বাঁধা দেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করার পরেও এই বালুখেকোদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থলে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আমরা আপনার স্মরণাপন্ন হতে বাধ্য হলাম। লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থল ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ণয় না করলে বালুখেকো চক্রটি আমাদের ভাটি অঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে, এতে হাওরবাসী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে।

আবেদনে বিষয়টিকে আমলে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাহারাম নদীর উৎসমুখ ও রাজাই মৌজার সীমানা চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।