গাজীপুর-৩ আসনে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর প্রার্থিতা বৈধ

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীর আলমের দায়ের করা অভিযোগের ওপর রবিবার (১৮ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে কমিশন সর্বসম্মতভাবে অভিযোগটি খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত দেয়।

শুনানিতে উভয় পক্ষের অভিজ্ঞ আইনজীবীরা উপস্থিত থেকে নির্বাচন আইন, সংবিধান এবং উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন মন্তব্য করে যে, অভিযোগটি আইনি ভিত্তিহীন এবং ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কোনো আইনগত কারণ বিদ্যমান নেই।

আরও পড়ুন: পুলিশের অভিযানে মাদক ও হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৩

অভিযোগ ও মামলার পটভূমি

নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক পিজি হাসপাতাল (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) এর সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে অপসারিত হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ৫ আগস্টের পর হাইকোর্টের রায়ে তিনি চাকরি ফিরে পান।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে হ্যাকার চক্রকে ধরার অভিযানে হামলা, ফাঁকা গুলি, এক নারী গ্রেফতার

অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করে, বয়সসীমা অতিক্রম করায় চাকরিতে তার যোগদান প্রশ্নবিদ্ধ এবং এই যোগদানের বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে তাকে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য করে তোলে।

আইনি যুক্তিতে অভিযোগ খারিজ

ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পক্ষে শুনানিতে আইনজীবীরা স্পষ্টভাবে বলেন, হাইকোর্টের রায়ে চাকরি পুনর্বহাল একটি চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক বিচারিক সিদ্ধান্ত। বয়সসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা কোনোভাবেই সংসদ নির্বাচনে অযোগ্যতার কারণ হতে পারে না।

সংবিধানের অনুযায়ী কাউকে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হলে ফৌজদারি দণ্ড, দুর্নীতি, দেউলিয়াত্ব অথবা সক্রিয় সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার মতো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হয়। ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর ক্ষেত্রে এর কোনোটিই প্রযোজ্য নয়।

নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণে

ডা. রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কোনো সক্রিয় সরকারি চাকরিতে কর্মরত নন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ড বা নির্বাচনী অযোগ্যতা সৃষ্টিকারী অভিযোগ নেই, কমিশন আরও জানায়, চাকরি সংক্রান্ত প্রশাসনিক বা ব্যাখ্যাগত বিষয় নির্বাচন আইনের আওতায় প্রার্থিতা বাতিলের কারণ হতে পারে না।

নির্বাচনী পথে আর কোনো বাধা নেই

নির্বাচন কমিশনের এই রায়ের ফলে গাজীপুর-৩ আসনে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যক্রমে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।