নাসিরনগরে বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নানের শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সোমবার বিকেলে এম এ হান্নানের শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশ উপলক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিলে হাজার হাজার লোক এসে সমবেত হয় নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল।
আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী প্রচারণায় ফুটবল প্রতিযোগিতায় চরশেরপুর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আজম, দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান ওমরাও খান, গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহীন, কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন ভূঁইয়া প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ করে বলেন, “সেই দলের মধ্যে যারা কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়, কোনো নির্দিষ্ট অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নয়—তাদের ওপর কোনো জুলুম-নির্যাতন করা যাবে না। তারা যেন এ দেশের নাগরিক হিসেবে নিরাপদে থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা বিএনপির দায়িত্ব।”
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে জনসংখ্যা দিবস পালিত
তিনি বিগত সময়ে বিএনপি সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আরও বলেন, “নাসিরনগরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান জনগণের উদ্দেশে বলেন,
“আমি যদি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই, তবে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে নাসিরনগর বাজারকে সাধারণ মানুষের জন্য ইজারামুক্ত করে দেব, ইনশাআল্লাহ। আশা করি আগামী ১২ তারিখে আপনারা শেষ হাসি হাসবেন। যদি আল্লাহ সহায় থাকেন, নাসিরনগরের মানুষ এই প্রথম ধানের শীষের এমপি পাবেন।”
উল্লেখ্য, একই স্থানে এর আগের দুই দিন শেষ নির্বাচনী জনসভা করেছেন আরও দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—অ্যাডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন (স্বতন্ত্র প্রার্থী) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলাম।





