নাজিরপুরে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নিয়েও স্বপদে বহাল (সিএইচসিপি)

Sanchoy Biswas
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:০১ পূর্বাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নিয়েও স্বপদে থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নেওয়ার আবেদন দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একই পদে বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানাযায়, মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন পদ্ধডুবি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি ০৯/০৫/২০২২ তারিখ থেকে চাকরি হতে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার জন্য আবেদন করেন ০৯/০৪/২০২২।

আরও পড়ুন: আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

স্বেচ্ছায় অব্যহতি নেওয়া পত্রটি ২২ সালের এপ্রিলের ৯তারিখ গ্রহণ করে অনুমোদন প্রদান করেন নাজিরপুরের তৎকালীন ও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: মো. মশিউর রহমান যিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। কিন্তু অব্যহতির আবেদন পত্র ওই কর্মকর্তা গ্রহণের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কি ভাবে একই পদে চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে এখন সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বেচ্ছায় অব্যহতির আবেদন করলে এবং তা গ্রহণ ও অনুমোদনের পর তার চাকরি বহাল থাকার কথা নয়। অথচ এই ক্ষেত্রে অব্যহতি পত্র গ্রহণের পরও চাকরি অব্যাহত থাকার ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।  

এদিকে জানাযায়, ২০২২সালে ইউপি নির্বাচনে তিনি ৩ নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর স্বেচ্ছায় অব্যহতি নেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি বিশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আবার স্বপদে চাকরি করে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন: পিলখানা বিস্ফোরক মামলায় ৮ সাবেক বিডিআর সদস্য জামিনে মুক্ত

এবিষয়ে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নেওয়া মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দিয়ে তার মোবাইলটি বন্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. মশিউর রহমান বলেন, ওটা আমি জানি সেটা হচ্ছে আমরা (পত্রটি) রিসিভ করে (আমার তো চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারি না)। পত্রটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: মতিউর রহমান জানান, এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. মশিউর রহমান ভালো বলতে পারবে। আমি খোজঁ খবর নিয়ে বলতে পারবো। তিনি আরো বলেন, যদি সে অব্যহতি দিয়ে থাকে এবং সেটি যদি গৃহীত হয় তাহলে তার চাকরিতে ফিরে আসার সুযোগ নাই।

উল্লেখ্য, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজ ভাবে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রশ্ন উঠেছে, এমন অনিয়ম যদি হয় তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয় বরং সরকারি নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে। সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রæত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাট করে আইননুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।