শ্রীপুরে বিয়ের একদিন পর নারী পোশাক কর্মীর আত্মহত্যা, স্বামী পলাতক

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ন, ০৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:০৮ পূর্বাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিয়ের একদিন পর ভাড়া বাসা থেকে জোছনা আক্তার (৩৪) নামের এক নারী পোশাক কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তার স্বামী।

আজ রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ

জোছনা আক্তার নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার মহিষবের গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহত গৃহবধূর বাবা সাইদুর রহমান বলেন, ‘জোছনা প্রথম স্বামীকে কিছুদিন পূর্বে ডিভোর্স দেয়। গতকাল শনিবার ইয়াসিন নামের এক ছেলেকে বিয়ে করে। বিকেল ৩টার দিকে জানতে পারি, জোছনা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ। কিন্তু মেয়ের দ্বিতীয় স্বামীকে পাইনি। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। শনিবার বিয়ের পর দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ছিল। প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। কী কারণে সে আত্মহত্যা করল, এর কিছুই বলতে পারছি না।’

আরও পড়ুন: শেকৃবিতে গুম-খুন ও জুলাই শহীদ–আহত পরিবারের সঙ্গে বৃহত্তর বগুড়া সমিতির ব্যতিক্রমী ইফতার

স্থানীয় বাসিন্দা ছমির উদ্দিন জানান, জোছনা স্থানীয় ঢাকা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। দ্বিতীয় স্বামী ইয়াসিন চাকরি করতেন আমান টেক্স নামের এক কারখানায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেম চলছিল। বিষয়টি জানার পর ইয়াসিনের স্ত্রী তাঁর স্বামীকে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গতকাল ইয়াসিন-জোছনা গোপনে বিয়ে করেন। গতকাল রাতে তাঁরা একত্রে ছিলেন। সকাল ৭টার দিকে স্বামী ইয়াসিন কর্মস্থলে চলে যান। দিনের কোনো এক সময় জোছনা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। দুপুরের দিকে বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।