সিলেটে দিলবর হত্যা

দুই সপ্তাহেও ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা, ফুঁসছে এলাকাবাসী

Sadek Ali
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৩ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটের সদর উপজেলায় মসজিদের নামকরণ নিয়ে সালিসি বৈঠকে দিলওয়ার হোসেন দিলবর (৫০) হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মূল আসামিরা। দীর্ঘ সময়েও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নের গালমশাহ গ্রামে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে নিহত দিলবরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে সাইদুল ইসলাম সোহাগ তার ৩ বছরের ছোট ভাই নুর মোহাম্মদ শারুফকে কাঁধে নিয়ে যখন বাবার বিচার দাবি করছিল, তখন উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখে পানি ধরে রাখা দায় হয়ে পড়ে। ভারী কণ্ঠে সোহাগ বলে, “আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আগের রাতেই খুনিরা নীল নকশা তৈরি করেছিল। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই।”

আরও পড়ুন: ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত মারামারি

গালমশাহ গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শফিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহর উপস্থিতিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় মেম্বার নাজিম উদ্দিন, বাবুল মেম্বার, মোবারক আলী, সলিম উল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে দুই সপ্তাহেও কেন খুনিরা শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হলো না, তা বোধগম্য নয়।

পঞ্চায়েত কমিটির প্রবীণ মুরব্বি মোবারক আলী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা রাজপথ অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। এরপর যদি এলাকায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তার দায়ভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই নিতে হবে।”

আরও পড়ুন: নান্দাইলে গ্রামীন সড়কের কাজের উদ্বোধন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মামলার অগ্রগতি জানতে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। ‘উপর মহলের বিধিনিষেধ’ আছে অজুহাত দেখিয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন, যা নিহতের স্বজনদের মনে সন্দেহের দানা আরও ঘনীভূত করছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল সদর উপজেলার গালমশাহ গ্রামের পঞ্চায়েতি জামে মসজিদের নামকরণ নিয়ে সালিসি বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন দিলবর। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুহেল আহমদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো সাফল্য না থাকায় বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।