নান্দাইলে শ্বশুর বাড়ি যাবার পথ হারিয়ে গণধর্ষণের শিকার এক নারী

Sadek Ali
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৪ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নান্দাইলের এক নিভৃত পল্লীতে শ^শুর বাড়ি যাওয়ার পথ হারিয়ে গণ ধর্ষনের স্বীকার এক নারী (২৮)। পুলিশ নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। শনিবার সরজমিন উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের গাতীপাড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়িতে থাকা নির্যাতিতা নারী ও তাকে আশ্রয়দাতা পরিবারের লোকজনরা জানান, গত সোমবার নিজ বাড়ি থেকে রওনা হয়ে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার পথে রাস্তা হারিয়ে নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকার চলে আসলে সন্ধ্যায় কয়েকজন লোক উক্ত নারীকে শ্বশুর বাড়ি পৌছে দেওয়ার কথা বলে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক পথে শিমুলতলা এলাকার একটি বিলে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে অপেক্ষমান আরও দুইজন উক্ত এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আবারও ধর্ষন করে ধর্ষিতাকে ফেলে রেখে যায়। শিমুলতলা এলাকার ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া জানান, ঘটনার দিন রাতে শিমুলতলা এলাকায় উক্ত নারীর কুলে থাকা শিশু সন্তান নিয়ে রাস্তায় কাদতে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে উক্ত নারী জানায় ৪জন ব্যক্তি তাকে বিলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে আরও দুইজন একটি বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক আবারও ধর্ষন করে। বিলে নিয়ে ধর্ষনের সময় নারী কুলে থাকা শিশু সন্তান কান্না করলে ধর্ষনকারীরা শিশুটিকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। এতে করে শিশুটির চোখের নিচে ফুলে যায়। ইজিবাইক চালক সুজন উক্ত ঘটনা জানার পর নির্যাতিতাকে তার বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেয়। ঐদিন গভীর রাতে কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র কাজল মিয়া তার বাড়ি থেকে উক্ত নারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে নিতে না পারায় আশ্রয়দাতা সহ বাড়ির অন্যান্যদের হুমকী দিয়ে চলে যায়। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বাশারত মিয়া আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে নির্যাতিতা নারীকে সরানোর চেষ্ঠা করে এবং কেন তাকে আশ্রয় দেওয়া হল এই মর্মে আশ্রয়দাতাকে হুমকী প্রদান করে। নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে উক্ত নির্যাতিতা নারীকে তার শিশু সহ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নান্দাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।