নরসিংদীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নারীসহ গ্রেফতার ৪

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:১২ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে নারীদের ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ দলকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রশাসনিক সংস্কার: ২ বছরে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পলাশ উপজেলার জিনারদি গ্রামের অহিদ মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২৪), সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মৃত হিরণ মিয়ার মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২০), একই উপজেলার উত্তর বাগহাটা গ্রামের মৃত আরমান মিয়ার ছেলে কাইয়ূম (২৫) এবং পৌর শহরের খাটেহারা এলাকার জসিম মিয়ার ছেলে ফয়সাল (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্ আল ফারুকের নির্দেশনায় ডিবির ওসি এরশাদ উল্লাহর নেতৃত্বে উপপরিদর্শক শেখ মো. জসিম উদ্দিন ও উপপরিদর্শক আব্দুস সালামের সমন্বয়ে গঠিত ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার সাহেপ্রতাপ ও পৌর শহরের রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের এ চার সদস্যকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। দেখা করার কথা বলে ভুক্তভোগীদের নির্জন স্থানে নিয়ে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে নারী সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়সাল মিয়া ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের নানা অপকর্মের কথা আদালতে স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি স্মৃতি আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বে অপহরণ ও চুরিসহ একাধিক মামলা এবং ফয়সালের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদক ও চুরিসহ নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।