চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:২২ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত “মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬”-এ এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার, ৪টি অটো-ইজিবাইক উদ্ধার

অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বোরো বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে: এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক

তিনি আরও বলেন, মাদক একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৯ জন আসামিসহ ৩৪ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৫ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে— ৩,৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০,৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২৯ বোতল বিয়ার, ২৩৮ দশমিক ৭৯ কেজি গাঁজা, ১ দশমিক ৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১ দশমিক ৮৯ কেজি কোকেন, ২৫,৪৮৫ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা, ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।