গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে অর্থদণ্ড, নোটিশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

Sanchoy Biswas
মবিনুল ইসলাম রাশা, গবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৬ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গণ বিশ্ববিদ্যালয়-এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা পৃথক নোটিশে ৯ জন শিক্ষার্থীর অর্থদণ্ড এবং কয়েকজনকে সতর্কীকরণ প্রজ্ঞাপন দেওয়া হলেও, কোনো নোটিশেই সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট বিধান উল্লেখ করা হয়নি।

এতে কোন আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট দণ্ডিত শিক্ষার্থীরা। নোটিশে বিধিভঙ্গ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হলেও, কোন ধারার লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বা কীভাবে অর্থদণ্ডের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে সুইডেন দূতাবাসের প্রতিনিধির সাক্ষাৎ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বছর জানুয়ারির ১৪ তারিখে শৃঙ্খলা কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি, সিন্ডিকেট এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের আর্থিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুবিধা (যদি থাকে) বাতিল করা হয়েছে এবং জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বাংলা বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তারকে ১০ হাজার টাকা এবং রসায়ন বিভাগের ১৬তম ব্যাচের নাসিম, আইন বিভাগের ২৯তম ব্যাচের তাওহীদ আহমেদ সালেহীন ও ইইই বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনোয়ার হোসেন অন্তরকে ১২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে কটনকানেক্ট সিইও’র সৌজন্য সাক্ষাৎ, গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

আবার হাইকোর্টের রায় নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরত আসা রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ে রসায়ন ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল আলম, ২০ ব্যাচের মেঘলা আক্তার, আইন বিভাগের ২৮তম ব্যাচের রাকিব, ২৯ ব্যাচের প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম, মাস্টার্সের শেখ খোদার নূর ইসলামসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের ২৫তম ব্যাচের আল-আমিন (আবির) এবং আইন বিভাগের ২৮তম ব্যাচের আসাদুর রহমান বিজয়কে সতর্কীকরণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা সাত কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় শাস্তির যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।

আইনি ভিত্তির বিষয়ে জানতে চেয়ে নাসিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন আইনের কোন ধারায় এই নোটিশ জারি করেছে তা উল্লেখ করেনি এবং আত্মপক্ষে সমর্থনের সুযোগও দেয়নি।

“এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী। যা ফ্যাসিবাদের পথকে অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করতে চাচ্ছে।”

রাকিব জানান, “তদন্ত/শৃঙ্খলা কমিটি গঠনের পর আমাকে ডাকা হয়নি, এমনকি কোনো মাধ্যমেই যোগাযোগ করা হয়নি। ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনোই সুযোগ প্রদান করা হয়নি, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট মৌলিক নীতির পরিপন্থী।”

রিয়া আক্তার উল্লেখ করেন, “অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে কিন্তু আইনি ভিত্তি জানানো হয়নি। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তারা প্রত্যেকেই বলে ‘জানি না’। তাহলে কোন মাধ্যমে আসলে এই দণ্ডটা এলো!”

খোদার নূর ইসলাম বলেন, “সেদিন আমরা কোর্টের রায় নিয়ে গিয়েছিলাম। কোর্টের রায় নিয়ে কোথাও যাওয়া তো অপরাধ না। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? কী অভিযোগ আসলো? কে অভিযোগ করলো? কিসের অভিযোগ! কিছুই জানি না।”

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন পরামর্শক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, “গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আইন রয়েছে, সেখানে সিন্ডিকেট-ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।”

তদন্ত কমিটির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির নিয়মই সম্পৃক্ত সকল পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া। তা না হলে তদন্তই সম্পন্ন হবে না।”

আইনের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, “তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এবং ট্রাস্টিবোর্ডের মাধ্যমে এই দণ্ড এসেছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে তারা লিখিতভাবে জানাতে পারে।”