হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

Sadek Ali
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৩ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল এলাকার বনচৌকি সীমান্তে আবারও ঘটেছে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত খাদেমুল ইসলাম উপজেলার আমঝোল এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদেমুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন সীমান্ত এলাকার দিকে গেলে ৯০৬ নম্বর পিলারের কাছে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই বিএসএফ সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হন খাদেমুল ইসলাম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুরে নেওয়া হয় এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন: কাশিয়ানীতে অপরাধ দমনে ওসির সাফল্য, পেলেন আইজিপি পদক

নিহত ব্যক্তিকে “চিহ্নিত চোরাকারী” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সীমান্তে এমন প্রাণঘাতী ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো অপরাধ বা সন্দেহের ঘটনা থাকলেও গুলি করে প্রাণ নেওয়া কখনোই সমাধান হতে পারে না।

ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয়দের ভাষ্য, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এমন গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা সীমান্তবাসীর স্বাভাবিক জীবনকে অনিরাপদ করে তুলছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ডা. প্রিয়াঙ্কা এমপি

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত খাদেমুল ইসলামের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের প্রশ্ন— আর কত মায়ের বুক খালি হলে সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে?

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যেন আর কোনো নিরীহ প্রাণ এভাবে ঝরে না পড়ে এবং দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

সীমান্তে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্যই গভীর উদ্বেগ ও বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।