টুং-টাং শব্দে মুখর নরসিংদীর কামারপল্লী

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:২২ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ঈদকে সামনে রেখে লোহার তৈরি সরঞ্জাম দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরির চাপে নরসিংদী'র কামারপল্লীগুলোতে দিনরাত টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ আবার পুরোনো সরঞ্জাম গুলোতে নতুন করে শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের কর্ম ব্যস্ততা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নরসিংদীর বড়বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য কামারের দোকান। আর এসব দোকানে লোহাকে জ্বলন্ত কয়লায় পু্ড়িয়ে রাত-দিন চলছে টুং-টাং শব্দ। বছরের অন্যান্য সময় তেমন ব্যস্ততা না থাকলেও এই নির্দিষ্ট সময়ে কারিগররা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই লোহা পেটার কাজে রয়েছেন মগ্ন। আর এসবই তৈরি  হচ্ছে কোরবানি ঈদের গবাদি পশুর মাংস প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার। বছরের অন্য সময় গুলোতে কাজের চাপ না থাকলেও কোরবানির ঈদের সময় যেন দম ফেলার ফুরসৎ নেই তাদের। তবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবারে সরঞ্জামের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন কামারীরা। তবে পশু কোরবানির জন্য দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে মানুষ ভিড় করছেন কামারপল্লীতে। আবার কেউ পুরোনো মরিচা ধরা দা, ছুরি, বটি মেরামত বা নতুন করে শান (দার) দেওয়ার জন্য ভিড় করেছেন কামারের ঘরে। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা সুুজা'র মৃত্যুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক

কামার পল্লীর নাগেশ্বর পাল বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা, বিদ্যুৎ আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান তিনি।

আরেক কামার রাজন কর্মকার বলেন, বছরের অন্যান্য সময় তেমন কাজ হয় না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিন-রাত কাজ করেও সময়মত মানুষের সরঞ্জাম ডেলিভারি দিতে পারি না। তিনি আরও জানান, প্রায় ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছি। গ্রাহকের চাহিদা থাকায় ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়ার সময় পাচ্ছি না। আর এসব চাহিদা সম্পূর্ণ নতুন দা-বটি আকৃতি ও লোহা ভেদে ৪শ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৪শ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা, কুড়াল ৬০০- ৯০০ টাকায় বিক্রি করছি। আর পুরনো মরিচা যন্ত্রপাতি শান বা পানি দিতে প্রতিটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কয়লা ও কাঁচামালের দাম সহনীয় রেখে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তারা।

আরও পড়ুন: খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ