হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের সুরক্ষায় চালু হচ্ছে ‘পাগলা ঘণ্টা’
দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম’ বা বিশেষ ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ এই সিস্টেম চালু করা হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতাল প্রশাসনের ওপর একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ কড়া সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৮৬
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার মহাখালী এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এই জোনের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের ১০টি হাসপাতালের আইসিইউ সেবা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন মন্ত্রী। এর আওতায় প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে ভেন্টিলেটর বা লাইফ-সাপোর্ট মেশিন এবং পাঁচটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫০
যেসব ১০ বেড আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও যশোরের আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। এছাড়া মাদারীপুর, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালসহ মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের জেনারেল হাসপাতাল এবং শেরপুর জেলা হাসপাতালেও এসব জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে ঢাকার বাইরের জেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





