রায়পুরে নকল বৈদ্যুতিক সামগ্রীতে বাজার সয়লাব

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪২ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর  পৌরসভায় দেশের প্রসিদ্ধ কোম্পানির নকল ও নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক তার, এনার্জি বাল্ব, হোল্ডার, সকেট এবং মাল্টিপ্লাগসহ বিভিন্ন প্রকারের নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রীতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের নকল ও নিম্নমানের বিদ্যুতের তার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ সয়লাব করে মানুষকে বিদ্যুতস্পৃষ্ট, পুড়ে যাওয়া, সম্পত্তির ক্ষতি এমনকি শর্ট সার্কিটের ঝুঁকির মধ্যে রাখছে।অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা অননুমোদিত পণ্যগুলোর এই ধরণের বিস্তারকে দায়ি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শিথিল পর্যবেক্ষণের কারণে অগ্নি বিপর্যয়ের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। 

আরও পড়ুন: পাহাড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে সেনাবাহিনী

এই পণ্যগুলো মূলত খুচরা এবং পাইকারি বাজারে বেশ কয়েকটি সুপরিচিত কোম্পানির নাম এবং লেবেল ব্যবহার করে বিক্রি করা হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন ) রায়পুর  শহরের কয়েকটি দোকান  পরিদর্শনকালে দেখতে পাওয়া যায় এবং অভিযোগে জানা যায়,  কিছু অসাধু ও অজানা  কোম্পানির উৎপাদিত বা বাজারজাত করা নিম্নমানের বিদ্যুতের তার এবং আনুষাঙ্গিক বিক্রি হচ্ছে; যা সুপার শাইন, প্যারাডাইস, এর মতো নামকরা ব্র্যান্ডের আইটেমের মতো দেখতে প্রায় একই রকম। 

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

নকল সীল, লোগো এবং স্টিকারগুলোকে খাঁটি দেখাতে নিম্নমানের পণ্যগুলোর সাথে ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়; গ্রাহকদের মনে আস্থা বাড়ানোর জন্য পণ্যের সাথে জাল ওয়ারেন্টি এবং গ্যারান্টিও প্রদান করা হয়। কিন্তু, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের নকল স্টিকার বা লেবেল লাগানো নকল বৈদ্যুতিক পণ্য কিনে গ্রাহকরা যখন প্রতারিত হচ্ছেন; তখন বিষয়টি দেখার কেউ নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুরে  কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা ফ্যান, পানির পাম্প, বাল্ব, টিউব লাইট, এলইডি লাইট, বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট, কাটআউট, হোল্ডার, রেগুলেটর, মাল্টি প্লাগসহ বিভিন্ন ধরণের নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য সংগ্রহ করেন। রাজধানীর গুলিস্তান, পাটুয়াটুলী, নবাবপুর ও চকবাজার বাজার থেকে তারগুলো অরিজিনাল বলে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে।

কখনও কখনও, তারা আসল দামের তুলনায় কম দাম উপলব্ধি করে, যাতে গ্রাহকরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।কখনও কখনও, কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য লাউড স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন রাস্তার ধারে রিকশা বা ভ্যানে বিক্রি করা হয়। হকাররা ১০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের এলইডি বাল্ব বিক্রি করে এবং তাদের বাজার মূল্য ৩০০ টাকা ঘোষণা করে।

গ্রাহকরা কম দামের জন্য বাল্বগুলো সাগ্রহে ক্রয় করে, কিন্তু ব্যবহার শুরু করার কয়েকদিন পরে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন,"একই তারের একটি কয়েল মান অনুযায়ী ৬/৭ হাজার  টাকার পরিবর্তে ৪,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতারা মান বিচার না করে সস্তা দামে পণ্য কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

রায়পুরে ভবন নির্মাণকারী একজন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "বিভিন্ন দোকান একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দাম চাওয়ায় আমি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিতে রয়েছি। অনেক দোকানদার আসল ও ব্র্যান্ডের দাবি করে নকল ও নিম্নমানের তার বিক্রি করে। কিন্তু এই পণ্যগুলোর বেশিরভাগই নকল এবং নিম্নমানের যা অগ্নি দুর্ঘটনার হুমকি  তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিম্নমানের ক্যাবল ও আনুষাঙ্গিক ব্যবহারের কারণে ঘন ঘন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে, জনজীবনের ক্ষতি হচ্ছে।

যদিও কর্তৃপক্ষ এই ধরণের পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং জরিমানা আদায় করে, অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্র্যাকডাউনের পরেই আবার ব্যবসা শুরু করে। ফলস্বরূপ, এই ধরণের অভ্যাস ব্যাপকভাবে চলতে থাকে।

একশ্রেণীর ডিলার এসব পণ্য সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা হওয়ায় এসব নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী বিক্রিতে তারা বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নিম্নমাণের এসব পণ্য সামগ্রীর বিক্রি বাড়ছে। এসব বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী আসল? নকল? না? নিম্নমাণের সেটা বোঝার ক্ষমতা নাই সাধারণ মানুষের। সাধারণ মানুষের এই সরলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব ব্যবসায়ীরা নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী বেশি দামে তাদের কাছে বিক্রি করছে। এসব নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী কিনে ক্রেতারা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বৈদ্যুতিক (সর্টসার্কিট) দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর্থিক সুবিধা (কমিশন) পওয়ার আশায় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এসব নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী কিনতে বাধ্য করছেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রিরা । তাদের নির্দেশনা মোতাবেক নিদ্রিষ্ট দোকান থেকে বিদ্যুৎ সামগ্রী না কিনলে সময় মতো কাজ না করা, অহেতুক ক্রটি দেখানো ও বিভিন্ন কৌশলে গ্রাহককে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকগণ তাদের মনোনিত দোকান থেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে নিম্নমাণের বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

রায়পুর  পৌরসভায় বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও যেনো দেখার কেউ নেই। এলাকায় এসব নকল ও নিম্নমাণের ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করেন বলে এলাকায় ব্যাপক প্রচার রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার ইলেকট্রিক ও  ইলেক্ট্রনিক্স দোকানগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব অনিয়ম বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছে স্থানীয় বাসিন্দারা ।