বড়লেখায় কমিউনিটি সেন্টারের তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরি, চোর গ্রেফতার
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাতের আঁধারে তালা ভেঙে চুরির ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বড়লেখা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত মো. কামরান আলী নামের এক চোরকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃত চোরের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাতের আঁধারে দুঃসাহসিক চুরি:
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় আ.লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রতুলি গাংকুল এলাকার ‘হাজী জামাল কমপ্লেক্স’ নামক একটি নামী কমিউনিটি সেন্টারে এই চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা সেন্টারের অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কক্ষের ভেতরে থাকা ১টি দামী ফ্রিজসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় কমিউনিটি সেন্টারের সার্বিক দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের সাড়াশি অভিযান ও মালামাল উদ্ধার:
আরও পড়ুন: উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
মামলা দায়েরের পরপরই বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠে নামেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাতে উপজেলার চুকারপুঞ্জি গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. কামরান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর কামরানকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে চুরির দায় স্বীকার করে এবং মালামাল লুকিয়ে রাখার স্থান বাতলে দেয়। গভীর রাতেই পুলিশ তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ফ্রিজসহ সমস্ত মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সাথে চুরির মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও (টমটম) জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, "কমিউনিটি সেন্টারে চুরির ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলাম। আমাদের তদন্তকারী অফিসার চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল আসামিকে রোববার রাতেই সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।" পুলিশের এমন দ্রুত পদক্ষেপ ও মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।





