লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন স্বামী
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্মম নির্যাতনে সামিয়া আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা পলাতক রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া মারা যান।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতা ওয়ারেস উদ্দিন ফরাসের জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ
নিহত সামিয়া আক্তার রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার দেলোয়ার হোসেন বতার মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী আটক
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ তার বোন সামিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। অবস্থার অবনতি হলে হাফিজ নিজেই তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সামিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত হাফিজ লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখেই কৌশলে পালিয়ে যান।
নিহতের পরিবারের স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সামিয়াকে মারধরের পর পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে সামিয়ার মরদেহ তার বাবার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা ঘাতক স্বামীর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে বিষক্রিয়ায় এক নারীর মৃত্যুর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট থানাকে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য পাল্টা চিঠি দিয়েছি। নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





