চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:২৬ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চীনের সঙ্গে কৌশলগত, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন: দুই দিনে ১৮ জনের মৃত্যু, তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। একইসঙ্গে বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবে, যেখানে যুদ্ধবিমান ক্রয়সহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ (Shared Future) বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী পেরোল বিএসসির ‘বাংলার জয়যাত্রা’

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের আলোচনায় বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

এছাড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। সরকার মংলায় চীনা বিনিয়োগের জন্য ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই শিল্পাঞ্চলটি পূর্বে ভারতীয় বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্বের সমঝোতা বাতিল করা হয়েছে এবং এখন ওই এলাকা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত।

এর আগে সরকার চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত চীনা শিল্প পার্ক অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে চীন ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে চীনের উৎপাদনমুখী শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে হাজার হাজার নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতি প্রতিবেশী ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যু এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে আটকে রাখার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকার ভারসাম্যপূর্ণ (Balanced) পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সয়াবিন, ভুট্টা ও তুলা আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভারত সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সময় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সর্বশেষ