মাধবপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পারাপার, দুর্ঘটনার শঙ্কা

Sadek Ali
শেখ ইমন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা ভূমি অফিস ও বহরা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সেতুটির দুটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনতলা-জগদীশপুর সড়ক থেকে মনতলা ভূমি অফিস ও মনতলা উপ-স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। প্রতিদিন ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত মানুষ এই সেতু ব্যবহার করেন। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য সেতুটির ওপর নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন: সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: প্রধান আসামি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে পথচারীদের।

তাদের দাবি, দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ হলে শুধু জনদুর্ভোগই কমবে না, ভূমি অফিস ও উপ-স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রে সেবা গ্রহণও হবে সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে তিতাসের হাই-প্রেশার গ্যাস লাইনে অবৈধ সংযোগ, দুই জমির মালিক গ্রেপ্তার

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “এ বছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”

উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রতিদিন আমাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই ভূমি অফিসে আসা-যাওয়া করতে হয়। সাধারণ মানুষও চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে।”