বদরখালীতে পুলিশের পৃথক অভিযান; ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জব্দ

চকরিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

Shahrier Islam Pallab
মিজানুর রহমান টুটুল, চকরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২২ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, শর্টগানের তাজা কার্তুজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়া এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করে চকরিয়া থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন: কুবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় গাড়ি রেখে পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বসতঘরটি ঘেরাও করেন। পরে সেখান থেকে রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন (৪০), জসিম উদ্দিন (২৬), মো. সাগর রানা (২০) ও জহুরা বেগম (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল ও একটি শর্টগান উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুটি কার্তুজের খোসা, অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জামাদি, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন: হেফাজতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শহর বানু (৫৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বসতঘরের পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাটির ভেতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি জব্দ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি অভিযানে সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও তিনটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া শর্টগানের তাজা কার্তুজসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি, কেনাবেচা, অস্ত্র ভাড়া দেওয়া এবং বিভিন্ন ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে মামলা থাকার বিষয়টিও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক ও সংশ্লিষ্ট অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান দুটি পরিচালিত হয়। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।