কুলাউড়ায় সাদ্দাম-সাদিক কায়েমের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘বৈষম্য আর চলবে না’

Sadek Ali
এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কুলাউড়া
প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩১ পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দলীয় লোকদের চাকরি দিয়ে বিএনপি সরকার নব্য ফ্যাসিবাদী আচরণ শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা আন্দোলন শুরু করলে দিল্লি, পিন্ডি কিংবা লন্ডনেও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। এসএসসিতে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী এ প্লাস পায়, এইচএসসিতে সেই পরিমাণ এ প্লাস পায় না। মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার কর্মপরিকল্পনার ওপর। এই সময়টা একজন শিক্ষার্থীর নিজেকে গড়ে তোলার সময়।

আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার, ২১ দিনের কারাদণ্ড

চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় সবকিছুতে পাস করার পরও ভাইভা পরীক্ষায় ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে শুধু নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান সব নাগরিককে চাকরি করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে কেনো শুধু নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়া হবে?

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের রক্তের প্রতিদান এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি তাদের নিজেদের দলের অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ১৭ বছরের নিপীড়নের পরও দল আগলে রাখা নেতাকে শোকজ

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা এমপি, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সময়ে সমাজে দাঙ্গাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, দেশের নেতারা দেশের ভালো চান এবং দেশপ্রেমের কথা বলেন। কিন্তু নেতৃত্বে যাওয়ার পর তারাই সবচেয়ে বেশি লুটপাট করেন। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, সরকার সব জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়নি, ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার সঠিকভাবে করতে পারেনি। দেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ বিল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ক্ষেত্রেও তারা সফল হচ্ছে না।

জুলাই আন্দোলন ও বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছিলো সব বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু বিএনপি সরকার সাত মাসের মধ্যেই আবার বৈষম্য শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে। নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারবে, ইনশাআল্লাহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নেতার নামে স্লোগান, শোডাউনসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর চলবে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে পড়াশোনা ও গবেষণা করবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা পল্টন জামায়াত আমির শাহিন আহমদ খান, কুলাউড়া উপজেলার আমির আব্দুল মুন্তাজিম, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর আমির মো, জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শাহরিয়ার, কলেজের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।