সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, বাড়িতে আপন ফুফুর মৃত্যু, যা জানা গেল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের কিছু না জানিয়েই গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা।

নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় খরচে মরদেহ দেশে আনার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সুবিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: গফরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম। তখন তার বয়স ছিল ২২ বছর। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নজরুলের মা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন তার ছেলে। কিন্তু হঠাৎ করেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পান তারা। পরিবারের দাবি, এ বিষয়ে আগে থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমেই ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন; শোকে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন স্বজনেরা।

আরও পড়ুন: হরিরামপুরে হারুকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন নজরুলের বাবা। তিনি জানান, খবরটি শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এদিকে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার আপন ফুফু।

নজরুলের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে কী করেছে আমি জানি না। একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।’

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে নজরুলের বাড়িতে ভিড় করছেন গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা উদ্বেগজনক।

এলাকাবাসী জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দরিদ্র কৃষক পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় নজরুলের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

নজরুল চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।