বগুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

Shahrier Islam Pallab
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১১ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ায় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সর্বস্তরের সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। গত চার দিন আনন্দ উল্লাসের পর বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিদায়ের করুন সুর বেজে উঠে ভক্তদের মাঝে। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের অন্তরে আগামি বছরে তার পুনরাগমনের প্রত্যাশায়।

গতকাল (২১শে অক্টোবর) বুধবার দুপুরের পর থেকে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একের পর এক শহরের ও শহরের আশে পাশের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ঘাট গুলোতে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তবৃন্দরা। শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন, চলে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত। দেবী দুর্গার বিদায়ে বিষাদ, সিঁদুর খেলার আনন্দ ও  প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে বিহিত পূজা, পুস্পাঞ্জলি ও শান্তির জল ছিটানোর পর দেবী দুর্গাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় জানানো হয়। গত পাঁচ দিনব্যাপি এই উৎসবের জন্য ভক্তদের আবার অপেক্ষা করতে হবে এক বছর। প্রতি বছরের মত উৎসব উপলক্ষ্যে বগুড়ার সব গুলো পূজামণ্ডপ ভাসছিল আনন্দ ও আলোর বন্যায়। গত চার দিন আনন্দ উল্লাসের পর বিজয়া দশমীতে দেবীর বিদায়ের করুন সুর বেজে উঠে ভক্তদের মাঝে।

আরও পড়ুন: বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

এবছর মহালয়ার মধ্য দিয়ে গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওইদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত শনিবার ষষ্ঠী থেকে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল। আজ বুধবার (২১শে অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এ আয়োজন। এদিকে বিজয়া দশমীতে শেষ বারের দেবী দুর্গার মত আশির্বাদ কামনায় মন্দীরে মন্দীরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের সনাতনী ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন। প্রতিটি মণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়। দেবী দুর্গার বিদায় বেলায় চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি। সকালে দশমী পূজা আরম্ভ হয়। করা হয় পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। শাস্ত্র মতে এদিন দেবী দুর্গা মর্ত ছেড়ে কৈলাসে স্বামী গৃহে ফিরে যান তার সন্তানদের সাথে নিয়ে।

এই পাঁচ দিন উৎসবকে ঘিরে বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে মেতে উঠেছিল ভক্তরা। প্রতি বছরের মত এবারও বিসর্জনের আগে সকাল ১১ টার দিকে মণ্ডপে মণ্ডপে অুনষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা, আনন্দ উল্লাস আর নাচ গান। সনাতনী (হিন্দু) সধবা নারীরা দেবী দুর্গার প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে  নিজেরা একে অন্যকে মঙ্গল কামনায় সিঁদুর পরান। মহা দশমীতে বিভিন্ন আচার ও পূজা অর্চনা শেষে বিকেল থেকেই ট্রাক ও ভ্যান করে ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাজনার তালে তালে বগুড়া শহরের বিভিন্ন মন্দির ও আশেপাশের এলাকা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা গুলো করতোয়া নদীর তীরে আনা হয়।

আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে ৪৭ পিস আটক ১, সহযোগী পলাতক

এসময় সনাতনী ভক্তদের কারও চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারও ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। মনে বিষাদের সুর আর ছায়া থাকলেও ভক্তরা মা'কে বিদায় জানাতে নদীর পাড়ে নিয়ে যান। শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য করতোয়া নদীর মালতিনগর এসপির ঘাট, দত্তবাড়ির কদমতলী ঘাট, চেলোপাড়া, লালমাটির ঘাটসহ শহরের আরও কয়েকটি ঘাটে লাইন করে ভক্তবৃন্দরা দুর্গা দেবীর বিসর্জন করেছেন।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ৭৩১টি। এরমধ্যে বগুড়া সদর ও মহানগরসহ ১২১টি, শিবগঞ্জে ৩৯টি, আদমদিঘীতে ৬৯টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি, কাহালুতে ৪২টি, নন্দীগ্রামে ৪৮টি, শাজাহানপুরে ৪৮টি, গাবতলীতে ৮৫টি, সোনাতলায় ৫৩টি, শেরপুরে ৯৪টি, ধুনটে ৩৩টি ও সারিয়াকান্দিতে ২৯টি, মোকামতলায় ২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মত এবছরও শহরের বেশকিছু পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় আরতি, উলধ্বনি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বগুড়ার ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরও তৎপরতা দেখা গেছে, যাতে দেবী দুর্গার বিসর্জনের সময় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে।