উপকূল সুরক্ষায় কলাপাড়ার নতুন চরে বন বিভাগের বনায়ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা, সাগরভাঙন রোধ এবং নতুন জেগে ওঠা চরভূমিগুলোতে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিসরে বনায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে বন বিভাগ। এর অংশ হিসেবে গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর সৈকতে ঝাউগাছ এবং আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর তীরে ছইলা ও কেওড়াসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা নতুন চরভূমি সংরক্ষণ এবং বনায়ন সম্প্রসারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে কাউয়ার চরে ৩২ একর জমিতে ঝাউবাগান করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন নদীতীরে প্রায় ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। সাত থেকে আট বছর আগে গঙ্গামতির তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ একর এলাকায় বনায়ন করা হয়। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এসব বাগানের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে সেখানে নতুন করে চারা রোপণ করা হয়।
আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ে ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানি
জানা যায়, এ অঞ্চলে ১৯৫৭ সাল থেকে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ষাকটের দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে কৃষিজমি ও জনবসতিকে লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষার জন্য নদী ও সাগরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাঁধের বাইরের অংশে গোলপাতাসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান গড়ে তোলা হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলাপাড়ায় প্রায় দুই হাজার ৭৯৪ একর জমিতে গোলপাতার বাগান, এক হাজার ৯২৯ একরে ম্যানগ্রোভ এবং তিন শতাধিক একরে নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল। পরবর্তী সময়ে সড়কের সংযোগপথ ও বাঁধের বিভিন্ন অংশে স্ট্রিপ বনায়ন এবং সামাজিক বনায়ন করা হয়।
নতুন চরভূমিতে বনায়ন উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে নতুন বনায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান বনাঞ্চল রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুয়াকাটা, খাজুরা, ধুলাসার ও গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে গত দুই দশকে সাগরের ভাঙনে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশের ম্যানগ্রোভ বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বনভূমি বালুচরে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, গঙ্গামতির দক্ষিণ-পূর্ব দিক ও রাবনাবাদ মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠায় সেখানে বনায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাঙালি নদীর উত্তোলনকৃত বালু জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চল দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে নতুন জেগে ওঠা সব নদীতীরের চরভূমি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আন্ধারমানিক নদীর তীরে প্লাবনভূমিসহ বিভিন্ন চর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় নদীর তীর দখল করে ইটভাটা, মাছের ঘের ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত বনের এলাকায় কৃষিকাজ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় জোয়ারে ভেসে আসা বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
নতুন চরভূমিতে পরিকল্পিত বনায়ন অব্যাহত রাখা, নদীতীরের জমি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর এবং বিদ্যমান বনাঞ্চল দখলমুক্ত রাখা গেলে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী আরও সুদৃঢ় হবে। এতে উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বনসম্পদ সংরক্ষণের সুযোগ বহুগুণ বাড়বে।





