পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কলি রানী

Sadek Ali
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৭ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শারীরিক সীমাবদ্ধতা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের কাছে হার মানতে বাধ্য, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রংপুরের কাউনিয়ার অকুতোভয় তরুণী কলি রানী। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল নেই, কলম ধরার সাধ্য নেই। কিন্তু মনের ভেতরের যে আলো, তাকে নিভতে দেয়নি সে। ডান পা দিয়ে লিখেই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে কাউনিয়া কলেজের এই শিক্ষার্থী।

উপজেলার গদাই গ্রামের প্রয়াত মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে কলি রানী। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবাকে হারায় সে। এরপর থেকে মা রূপালী রানীর পরম মমতা আর সাহসেই পথ চলা তার। মা রূপালী রানী জানান, জন্মগত প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কলি কখনো দমে যায়নি। পারিবারিক সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজের চেষ্টায় আজ সে এতদূর এসেছে।

আরও পড়ুন: সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ, বাতিল ১৬৫ ফ্লাইট

পড়াশোনার পাশাপাশি কলির রয়েছে বহুমুখী প্রতিভা। ডান পা দিয়েই সে অনায়াসে মোবাইল ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারে। শুধু তাই নয়, গানের জগতেও রয়েছে তার দারুণ দখল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ইতোমধ্যে সে কুড়িয়েছে একাধিক পুরস্কার ও প্রশংসা।

কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা থাকলেও, কলি রানী সবার সাথে বসেই পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সে অনুযায়ী ৩০২ নম্বর কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথেই পরীক্ষা দেয় সে। নিয়মমাফিক তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল এবং অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই সে প্রতিটি পরীক্ষা সম্পন্ন করে আজ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন ৬৫ চরমপন্থি সদস্য

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন কলি রানী পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছে। আমরা তার এ ফলাফলে খুবই খুশি। 

পায়ে লিখে এর আগেও সে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হওয়া কলি রানীর স্বপ্ন এখন আকাশছোঁয়া। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কলি জানায়, সে উচ্চশিক্ষা শেষ করে একজন বিসিএস ক্যাডার হতে চায় এবং দেশ ও মানুষের সেবা করতে চায়। সে প্রমাণ করতে চায়—শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো স্বপ্নপূরণের পথে প্রাচীর হতে পারে না।

উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পড়াশোনার জন্য কলি রানী ও তার পরিবার সকলের আশীর্বাদ ও বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।